নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রাম পাঁচগাঁও। পাহাড়, ঝিরিপথ, ঝর্ণা আর বিস্তৃত সবুজের মাঝে গড়ে উঠেছে এই গ্রামটি। যারা ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে প্রকৃতির বুকে মিশে যেতে চান, তাদের জন্য পাঁচগাঁও এক আদর্শ গন্তব্য।
চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় ও লোককথা
পাঁচগাঁওয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, যা স্থানীয়দের কাছে পাঁচগাঁও টিলা নামেও পরিচিত। পাহাড়ের আকৃতি অনেকটা নৌকার মতো হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন লোককথা — বিখ্যাত চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া নৌকার আদলে এই পাহাড়ের নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়। পাহাড়ের চারপাশে ছড়ানো টিলা, বড় পাথর আর বৈঠার মতো শিলাখণ্ড এই কাহিনীকে আরও জীবন্ত করে রাখে। পাদদেশে আছে একটি প্রাচীন বটগাছ যার ছায়ায় বসে প্রকৃতির নীরবতা উপভোগ করার অনুভূতিটাই আলাদা।
ভিডিও কার্টেসি: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ঝর্ণা ও ঝিরিপথ
পাঁচগাঁওয়ের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে পাহাড়ের কোলে ছোট-বড় ঝর্ণায়। সুশীতল পানি শরীর ও মনকে একসাথে সতেজ করে দেয়। ঝর্ণার অংশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতের দিকে বিস্তৃত, যেখানে প্রকৃতি আরও বন্য ও অপরূপ। বর্ষাকালে এই ঝর্ণাগুলো পূর্ণ যৌবনে থাকে এবং পুরো এলাকা হয়ে ওঠে সবুজ-নীল এক স্বর্গ।
আশেপাশে কী দেখবেন
যেভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী থেকে কলমাকান্দাগামী বাসে ভোরের মধ্যেই কলমাকান্দা বাজার। সেখান থেকে বাইক বা সিএনজিতে পাঁচগাঁও। নেত্রকোণা হয়ে সিএনজিতে কলমাকান্দা, তারপর বাইকে পাঁচগাঁও।
কোথায় খাবেন
চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ের পাশেই স্থানীয়রা খাবারের হোটেল চালু করেছেন। বড় দল হলে আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখা ভালো। কলমাকান্দা বাজারেও কিছু হোটেল আছে। নেত্রকোণায় গেলে বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।
কোথায় থাকবেন
পাঁচগাঁও একদিনেই ঘুরে আসা যায়। রাত থাকার পরিকল্পনা থাকলে কলমাকান্দা বাজার বা নেত্রকোণা শহরের হোটেলে থাকতে হবে।
আপনার অভিজ্ঞতা, ছবি, ভিডিও তথ্যে সমৃদ্ধ হবে সুবর্ণনেত্র
জমা দিন