নেত্রকোণা শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মগড়া নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে মদনপুর মাজার। একাদশ শতাব্দীতে তুরস্ক থেকে আসা হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি (রহ.)-এর পবিত্র সমাধিস্থল এটি - বাংলায় ইসলামের অন্যতম প্রাচীন প্রচারকের স্মৃতি আজও এখানে জীবন্ত।
ঐতিহাসিক পরিচয় ও আগমনের কাহিনী
৪৪৫ হিজরীতে তুরস্কের সেলজুক অঞ্চল থেকে প্রায় ৪০ জন আউলিয়া সঙ্গী নিয়ে হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি (রহ.) এই উপমহাদেশে আসেন। চট্টগ্রাম হয়ে মহাস্থানগড়ে পৌঁছে ইসলাম প্রচার শুরু করেন এবং স্থানীয় শাসক রাজা পরশুরামকে পরাজিত করেন। এরপর পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে অবশেষে মদনপুরে স্থায়ীভাবে আস্তানা গড়েন এবং এখানেই ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেন।
কিংবদন্তি ও অলৌকিক ঘটনা
মদনপুরে আসার পর কোচ রাজা মদনের দরবারে একাধিক অলৌকিক ঘটনার কাহিনী প্রচলিত। রাজা পরীক্ষা করতে বিষ মেশানো শরবত দিলে তিনি 'বিসমিল্লাহ' বলে পান করে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন। এই দৃশ্য দেখে রাজা ও সভাসদেরা বিস্মিত হন এবং অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেন। আরেক কাহিনীতে বলা হয়, তাঁর জায়নামাজ বিছানোর সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্তৃত হয়ে পুরো দরবার ঢেকে ফেলে।
মদনপুর মাজার সম্পর্কে ভিডিও দেখুন
মাজার ও বর্তমান অবস্থা
বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত মদনপুর মাজার ঐতিহাসিকভাবে লাখেরাজ - অর্থাৎ খাজনামুক্ত সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। ১৮২৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই সম্পত্তি অধিগ্রহণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বর্তমানে জেলা প্রশাসন ও খাদেমদের কমিটির মাধ্যমে মাজারটি পরিচালিত হচ্ছে।
ওরশ মোবারক
প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমায় তিন দিনব্যাপী ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় লাখো ভক্ত-অনুরাগী দূর-দূরান্ত থেকে সমবেত হন এবং পুরো মাজার প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
যেভাবে যাবেন
নেত্রকোণা শহর থেকে কেন্দুয়া সড়ক ধরে অটো, সিএনজি বা মোটরসাইকেলে সহজেই মদনপুর। দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার।কুরপাড়া এলাকা থেকেও স্থানীয় যানবাহনে মাজারে পৌঁছানো যায়। গুগল ম্যাপ লিংক
আপনার অভিজ্ঞতা, ছবি, ভিডিও তথ্যে সমৃদ্ধ হবে সুবর্ণনেত্র
জমা দিন