প্রতিটি গলি, প্রতিটি মাঠ, প্রতিটি চায়ের দোকান নেত্রকোণার প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে অসংখ্য হাসি, স্মৃতি আর ভালোবাসার গল্প। হারিয়ে যাওয়া আমাদের দেখা,আমাদের জমানো মুহূর্ত গুলোই সাজাই এখানে।
স্মৃতির কথা
কাটলি আমার কাছে শুধু একটি এলাকা নয়, এটা আমার শৈশবের গন্ধ মাখা একটি পৃথিবী। ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলের দিকে মাঠে ক্রিকেট খেলতে বের হতাম। কখনো হারতাম, কখনো জিততাম, কিন্তু আনন্দটা সব সময় সমান থাকত। এখন যখন অনেক দূরে থাকি, তখন কাটলির সেই সরু রাস্তা, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্প করা, আর সন্ধ্যায় আজানের ধ্বনি শুনে বাড়ি ফেরার মুহূর্তগুলো খুব মনে পড়ে। মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে সরল আর সুন্দর সময়গুলো কাটলিতেই রেখে এসেছি।
নাগড়া আমার কাছে পড়াশোনা আর বন্ধুত্বের স্মৃতিতে ভরা একটি জায়গা। জ্ঞানদীপ কোচিং সেন্টারে ক্লাস শেষে আমরা বন্ধুরা দাঁড়িয়ে অনেক গল্প করতাম। আজ অনেক বছর পরও যখন নাগড়ার নাম শুনি, তখন মনে হয় আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ছাত্রজীবনের দিনগুলো সেখানেই রয়ে গেছে।
উকিল পাড়ার বিকেলগুলো ছিল এক অন্যরকম শান্তির সময়। স্কুল শেষ করে বন্ধুরা মিলে রাস্তায় হাঁটতাম, কখনো আবার চায়ের দোকানে বসে গল্প করতাম। উকিল পাড়া আমার কাছে সব সময় স্মৃতির এক উষ্ণ আশ্রয় হয়ে থাকবে।
মুক্তারপাড়ার রাস্তা ধরে হাঁটলে মনে হয় সময়টা একটু ধীরে চলে। বিকেলের আলো যখন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে পড়ে, তখন জায়গাটা আরও সুন্দর লাগে। হাসি, গল্প আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে মুক্তারপাড়া আমার কাছে এক টুকরো স্মৃতির শহর।
জয়নগরের সকালগুলো আমার কাছে খুব প্রিয়। স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় যে ব্যস্ততা থাকত, সেটা এখনো মনে পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কত গল্প, কত হাসি। তখন বুঝিনি যে এই মুহূর্তগুলো একদিন এত মূল্যবান মনে হবে।
সাতপাইয়ের সন্ধ্যা মানেই ছিল বন্ধুরা মিলে আড্ডা। ছোট চায়ের দোকান, হাতে এক কাপ চা আর অসংখ্য গল্প। কখন যে সময় চলে যেত বুঝতেই পারতাম না। এখন দূরে থাকলেও সেই সন্ধ্যার স্মৃতিগুলো সব সময় মনে পড়ে।
রেল ক্রসিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে ট্রেন যাওয়া দেখা ছিল আমার ছোটবেলার প্রিয় কাজ। ট্রেনের শব্দ, বাতাসের ঝাপটা সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ লাগত। এখনো যখন ট্রেনের শব্দ শুনি, তখন সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।
চকপাড়ার মাঠে বিকেলের ক্রিকেট ম্যাচ ছিল আমাদের জীবনের বড় আনন্দ। ব্যাট হাতে দাঁড়ালে মনে হতো আমি যেন বড় কোনো খেলোয়াড়। সেই খেলাগুলো হয়তো খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু স্মৃতিগুলো অসাধারণ।
মঈনপুরের শান্ত পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগত। বিকেলে ছাদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা ছিল আমার অভ্যাস। তখন মনে হতো জীবন খুব সহজ।
রাজুর বাজার টিটিসির সামনে চায়ের দোকানে আড্ডা ছিল আমাদের দৈনন্দিন রুটিন। এক কাপ চা আর বন্ধুরা এইটুকুই আমাদের সুখ ছিল।
স্কুল জীবনের স্মৃতি আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। প্রতিটি ক্লাসরুম, প্রতিটি করিডোর যেন এখনো আমার হাসি আর গল্পের সাক্ষী।
এখানে কাটানো দিনগুলো আমাকে আজকের আমি হতে সাহায্য করেছে। বন্ধু, শিক্ষক আর প্রতিদিনের নতুন শেখা—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সময় ছিল।
দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনগুলো মনে পড়লে এখনো মন ভরে যায়। পরীক্ষার ভয়, বন্ধুত্বের আনন্দ—সব একসঙ্গে ছিল।
দিনগুলো যা গেছে তা ফিরবেনা আর তবে নীল ড্রেসের সেই ছুটে চলার দিনগুলো থেকে যাবে আমৃত্যু।
নেত্রকোণা সরকারি কলেজে কাটানো সময় আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখানেই প্রথম নিজের স্বপ্নগুলো নিয়ে ভাবতে শিখেছিলাম।
আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজের ক্লাস শেষে বন্ধুরা মিলে ক্যাম্পাসে হাঁটতাম। সেই বিকেলগুলো ছিল খুব সুন্দর।
সরকারি মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে হাঁটলে এখনো কলেজ জীবনের ব্যস্ততা মনে পড়ে।
ই-জোন কোচিং সেন্টারে জীবন স্যারের ক্লাস ছিল সব সময় অনুপ্রেরণাদায়ক।
নাগড়ার জ্ঞানদীপ কোচিং সেন্টার ছিল আমাদের পড়াশোনার বড় ভরসা।
সকাল বেলার প্রাইভেট ক্লাস মানেই ছিল ঘুম ঘুম চোখে পড়তে যাওয়া।
স্কুলে যাওয়ার সেই পথ এখনো মনে পড়ে। মনে হয় যেন গতকালের ঘটনা।
বড় স্টেশনে বিকেলের আড্ডা ছিল অন্যরকম আনন্দ।
রাজুর বাজার টিটিসির সামনে বন্ধুরা মিলে চা খাওয়ার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকেলগুলো ছিল সবচেয়ে সুন্দর।
নাগড়ার রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এখনো শৈশবের কথা মনে পড়ে।
কাটলির পরিবেশ সব সময় আমাকে শান্তি দেয়।
মুক্তারপাড়ার আড্ডাগুলো এখনো মনে পড়ে।
জয়নগরের বিকেলগুলো ছিল খুব সুন্দর।
সাতপাইয়ের ছোট চায়ের দোকান এখনো আমার প্রিয়।
রেল ক্রসিংয়ের ট্রেন দেখার স্মৃতি আমার কাছে অমূল্য।
আজ যা আছে তাও থাকবে না একদিন।
চলুন আমাদের দেখা নেত্রকোনাকে তুলে ধরি লেখায়, ছবিতে, ভিডিওতে
জমা দিন →আপনার লেখা, ছবি কিংবা ভিডিও থাকবে সুবর্ননেত্র ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে