একদিনে বিরিশিরি ভ্রমণ

বিজয়পুরের বহুরঙা চিনামাটির পাহাড়, নীল জলের হ্রদ ও রানীখং গির্জা দুর্গাপুর, নেত্রকোণার অনন্য প্রাকৃতিক গন্তব্য।
ছবি: নাঈমুর রহমান দুর্জয়
ছবি: নীল
ছবি: অনলাইন

প্রকৃতি, পাহাড়, নদী আর আদিবাসী সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হলো নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি। বিজয়পুরের বহুরঙা চিনামাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদীর নীলস্বচ্ছ জল আর পাহাড়ের চূড়ায় রানীখং গির্জা - এই তিনটি মিলিয়ে বিরিশিরি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক গন্তব্য।

চিনামাটির পাহাড় ও নীল হ্রদ

বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড় বিরিশিরির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি সাদা, ধূসর, লাল ও নীলাভ আভায় রঙিন। ১৯৫৭ সালে প্রথম এখানে চিনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়, এবং সরকারি জরিপ অনুযায়ী এখানে প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চিনামাটির মজুদ রয়েছে। পাহাড়ের কাটা অংশে জমে থাকা নীল জলের হ্রদ মুহূর্তেই মুগ্ধ করে নেয়।

বিরিশিরি ও চিনামাটির পাহাড়ের ভিডিও দেখুন

আরও যা দেখবেন

রানীখং গির্জা · কমলা রানীর দীঘি · বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি · গারো ও হাজং নৃগোষ্ঠীর বসতি · তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন · কমরেড মনি সিংহের স্মৃতিভাস্কর

বিরিশিরি বাজার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ৫-৬ ঘণ্টায় সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা সম্ভব।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দুর্গাপুরগামী সরাসরি বাস, বাস সুখনগরী পর্যন্ত যায়, সেখান থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে রিকশা বা মোটরসাইকেলে দুর্গাপুর। কমলাপুর থেকে হাওর এক্সপ্রেস বা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে শ্যামগঞ্জ বা নেত্রকোণা, সেখান থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেলে বিরিশিরি। জারিয়া স্টেশন থেকে ট্রলার বা অটোতেও বিরিশিরি যাওয়া যায়।

কোথায় খাবেন

দুর্গাপুর বাজারে মধ্যম মানের রেস্তোরাঁ আছে, যেখানে ভাত, ডাল, মাছ ও মাংস পাওয়া যায়। পাহাড়ি এলাকায় সব জায়গায় খাবার পাওয়া যায় না, তাই হালকা স্ন্যাক্স সঙ্গে রাখা ভালো। নেত্রকোণার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি খেতে ভুলবেন না।

কোথায় থাকবেন

বিরিশিরি ও দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, গেস্ট হাউস এবং আবাসিক হোটেল আছে।

নেত্রকোণা ভ্রমণের গল্প, ছবি আর ট্যুর গাইড

আপনার অভিজ্ঞতা, ছবি, ভিডিও তথ্যে সমৃদ্ধ হবে সুবর্ণনেত্র

জমা দিন →
নবীনতর পূর্বতন