নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ডিঙ্গাপোতা হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওরগুলোর একটি। বর্ষায় বিশাল জলরাশিতে ভরে উঠে যেন এক অথৈ সমুদ্র, আর শরৎ-হেমন্তে সোনালি ধানক্ষেত আর নীল আকাশের মিলনে তৈরি হয় এক জীবন্ত চিত্রপট। সারা বছরই হাওরের গভীরে আধডোবা হিজল গাছ, ঢেউ আর আকাশের প্রতিচ্ছবি মিলে তৈরি করে অনন্য এক দৃশ্য।
হাওরের রূপ ঋতুতে ঋতুতে
বর্ষাকালে হাওরের ঢেউয়ের ছলাৎছলাৎ শব্দ আর নীল আকাশের প্রতিফলনে মনে হয় সীমাহীন এক জলের দেশে এসে পড়েছেন। শুষ্ক মৌসুমে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও বিস্তীর্ণ ভূমি শান্ত এক সৌন্দর্যের জন্ম দেয়। আর শরৎ-হেমন্তে দু'পাশে সোনালি ধানক্ষেত — এই দৃশ্যই ডিঙ্গাপোতাকে সবচেয়ে বেশি মানুষের মনে গেঁথে দেয়।
ভিডিও কার্টেসি: ট্রাভেলিং অব বাংলাদেশ
হাওরে স্থানীয় জীবন ও অনন্য অভিজ্ঞতা
মাছ ধরার মৌসুমে হাওরের পাড়ে জেলেদের অস্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে। কাছ থেকে জেলেদের জীবনধারা দেখতে পারবেন, তাজা মাছ কিনতে পারবেন। চাইলে ট্রলার ভাড়া করে মাঝির সঙ্গে হাওরের মাঝখানে রান্না করে খাওয়ার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায়।
যেভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি নেত্রকোণা, তারপর মোহনগঞ্জ। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাওর এক্সপ্রেস বা মোহনগঞ্জ ট্রেনে সরাসরি মোহনগঞ্জ। মোহনগঞ্জ থেকে অটো বা লেগুনায় তেতুলিয়া ঘাট, তারপর ট্রলারে হাওর। গুগল ম্যাপ লিংক
আশেপাশে কী দেখবেন
কোথায় খাবেন
মোহনগঞ্জের হাওর ইনে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ট্রলার রিজার্ভ করলে মাঝির সাহায্যে নিজেরাও রান্না করতে পারবেন। নেত্রকোণায় গেলে বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।
কোথায় থাকবেন
মোহনগঞ্জে হাওর ইন ও হোটেল শাপলাসহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল আছে। কাছাকাছি বিরিশিরি ও দুর্গাপুরেও ভালো মানের হোটেল পাবেন — আল নুর, সৌরভ, চন্দন, নিরালা ও মদিনা।
আপনার অভিজ্ঞতা, ছবি, ভিডিও তথ্যে সমৃদ্ধ হবে সুবর্ণনেত্র
জমা দিনপাঠানো তথ্য ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে প্রকাশ করা হবে।